আল আমিন খাঁন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।
খুলনার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের সদ্য বদলি হওয়া সহকারী স্বাস্থ পরিদর্শক শামীম হাসানের বিরুদ্ধে জন্মনিবন্ধন জালিয়াতি সহ অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে খুলনার সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ ও প্রমানাদি পাঠিয়েছেন ২নং দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান শিপলু ভূঁইয়া।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে সাবেক কর্মরত শামীম হাসান দীর্ঘ দিন যাবৎ দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান শিপলু ভূঁইয়ার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কম্পিউটারে এডিট করে ভূঁয়া জন্মনিবন্ধন তৈরি করে দিতো তাঁর কাছে আসা আগত ব্যক্তিদের। বিনিময়ে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য করে আসত শামীম হাসান। চেয়ারম্যানের কাছে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হলে শামীম হাসানকে ডাকা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেনের কার্যালয়ে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে সকল অপরাধ স্বীকার করেন শামীম।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভূঁইয়া শিপুল খুলনার সিভিল সার্জনকে লিখিতভাবে বিষয়গুলো অবগত করেন। এছাড়া সিভিল সার্জন অফিসে ভূঁয়া জন্মনিবন্ধনের কাগজগুলো প্রেরণ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের স্টাফ জানান, শামীম হাসান দীর্ঘ দিন যাবৎ ভূঁয়া জন্মসনদ তৈরির ব্যবসা করে আসছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকার পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
এদিকে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য প.প কর্মকর্তা জেসমিন আরা মুঠোফোনে বলেছেন, আমার কাছে ভূঁয়া জন্মনিবন্ধনের কিছু কাগজ আসছে, সেগুলো সিভিল সার্জন স্যারের কাছে প্রেরণ করেছি, আর শামীম হাসান কয়রা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে বদলি হয়েছে।
দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভূঁইয়া শিপলু জানান, এর আগেও শামীম আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছে, তাকে একাধিকবার নিষেধ করার পরেও তিনি আমার স্বাক্ষর জালিয়াতী করে ভূঁয়া জন্ম নিবন্ধন দিয়ে যাচ্ছে।

অভিযুক্ত শামীম হাসান বলেন, আমি এ পর্যন্ত ২৬টি কাগজ (ভূঁয়া জন্মনিবন্ধন) ফুলতলার এক কম্পিউটারের দোকান থেকে তৈরি করেছি। আমার ভূল হয়ে গেছে, আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেন।
সিভিল সার্জন খুলনা (সুজাত আহমেদ) জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






