খুলনার ৮ উপজেলায় ভোট কাল

270

খুলনা ব্যুরো
খুলনার ৮ উপজেলায় আগামীকাল রোববার (৩১ মার্চ) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগের দিন শনিবার কড়া নিরাপত্তায় উপজেলার নির্বাচনী কার্যালয়গুলো থেকে ভোট কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হচ্ছে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম।
এদিকে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্ততি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। রোববার নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। খুলনার ৮ উপজেলায় ২১ হাজার পুলিশ, ৪ হাজার ৬৯২জন আনসার, ২৪ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ১৮ টি পেট্রোল পার্টি ও ২০৭ জন কোস্টগার্ড সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
সূত্র মতে, রোববার খুলনা জেলার ৯ উপজেলার ৮টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে মধ্যে বটিয়াঘাটা ও ফুলতলা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ও দাকোপ উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২১ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৫ জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন। বাকি ডুমুরিয়া উপজেলায় নৌকা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে দু’ চেয়ারম্যান প্রার্থীর দ্বন্দ্বে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। যে কারণে রোববার ডুমুরিয়া উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।
এদিকে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খুলনার ৬৫ শতাংশ কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন।
জেলা নির্বাচন অফিসের সূত্র জানান, ৮টি উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪৭৭টি। এর মধ্যে দূর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্পর্শকাতর এলাকা ও দূরবর্তী স্থান বিবেচনায় ২৯৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। যা মোট ভোট কেন্দ্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সিটিএসবি) মনিরা সুলতানা বলেন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় ৪৬টি ভোট কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৫টি কেন্দ্র সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
খুলনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-ওয়াস) আব্দুর রশীদ বলেন, খুলনার ৮ উপজেলায় ২১ হাজার পুলিশ, ৪ হাজার ৬৯২জন আনসার, ২৪ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ১৮ টি পেট্রোল পার্টি ও ২০৭ জন কোস্টগার্ড সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত উপজেলা নির্বাচনে খুলনার নয়টি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে চেয়ারম্যান পদে জয় পায় আওয়ামী লীগ। ডুমুরিয়া ও পাইকগাছায় বিএনপি এবং কয়রায় জামায়াত প্রার্থী নির্বাচিত হন। তবে এবার বিরোধী দল-মতের কোন প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। আওয়ামী লীগ একক রাজনৈতিক দল এবং একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।